
সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় চলছে মদ, জুয়ার রমরমা বাণিজ্য। এতে তরুণ যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকেরা আসক্ত হয়ে পড়ছে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বেশ কয়েকটি মদ, জুয়ার আসর চলে থানা পুলিশের কথিত দুই সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে। এসব আস্তানা থেকে প্রতিদিন লক্ষ, লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে । এতে দুই পুলিশ সদস্য অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত হয়ে পড়েছেন। এই চাঁদা শীর্ষ জুয়ারী কাশেম ও মানিক মিলে এসব আস্তানা হতে প্রশাসনের নামে উত্তোলন করে তাদের টেবিলে পাটিয়ে থাকেন।
এদিকে মদ, জুয়ার আসর বন্ধে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বেশ কয়েকবার দক্ষিণ সুরমা ও উত্তর সুরমায় অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সামগ্রী সহ মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় ভাবে প্রশংসা কুড়ালেও থানা পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সরেজমিন বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোক জানিয়েছেন, দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস ও কদমতলী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি শশধর দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব এলাকায় মাদক ও জুয়ার রমরমা বাণিজ্য চলছে। এই দুই কথিত অসাধু কর্মকর্তার পকেট মানি হয়ে কাজ করছেন চিহ্নিত শীর্ষ জুয়ারী কাশেম ও মানিক। এছাড়া তাদের শেল্টার দিচ্ছে কতিপয় কিছু হলুদ সংবাদকর্মীরাও। স্থানীয়রা হামলা, মামলার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে নারাজ।
সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা যায়, ছোটখাটো আস্তানা বাদে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় সবচেয়ে বড়ো তিনটি মাদক ও জুয়ার আস্তানা রয়েছে। এসব আস্তানা জুয়ারী কাশেমের নেতৃত্বে চলছে। এরমধ্যে হলো রেলওয়ে ষ্টেশনের প্রবেশ দ্বার, জিঞ্জির শাহ মাজার সংলগ্ন ছাড়াও বাঁশপালা মার্কেট মেতর পট্টি অন্তরের আস্তানা নামে সকলের কাছে অতি পরিচিত। রয়েছে ক্বীনব্রিজের নিচেও আরেকটি চিরচেনা আস্তানা।
অভিযোগ রয়েছে ক্রাইমজোন এসব এলাকায় থানা পুলিশের উল্লেখিত দুই কর্তা অনেক সময় উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে বির্তক সৃষ্টি করছেন। এনিয়ে জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষরা নিরব! স্থানীয়দের অভিযোগ ওসি ইয়ারদৌস হাসান ও টু-আইসি গডফাদারের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তারা প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বা সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে ষড়যন্ত্রের আদলে কৌশলে হামলা-মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঐ ওসি যোগদানের পর দক্ষিণ সুরমা এলাকায়, চোরাকারবারী, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ হরেকরকম অপকর্ম বেড়ে গেছে। এতে করে অপরাধিরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষরা এই ব্যাপারে সোচ্ছার না হলে পুরো দক্ষিণ সুরমা এলাকা অপরাধিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে পুলিশ সদস্য শশধর’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সকল জুয়ারী তার পরিচিত তবে বর্তমানে সেই বোর্ডগুলো বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অভিযান দিতেছি তাই এই ব্যাপারে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এসময় তিনি কদমতলি বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির আইসি’র সহীত যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে শীর্ষ জুয়ারী কাশেম মুঠোফোনে বলেন, সারা দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আমার নামেই চলে জুয়া, বলেই সংযোগ কেটে দেন। জুয়ারি মানিকের মুঠোফোন বন্ধ থানায় কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ইতোমধ্যে তিনি কারাভোগ করে এসেছেন বলে প্রশাসনের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মাদক ও জুয়ার আস্তানা নিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসানের মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি অন্যান্য বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, গতকাল তার নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিয়মিত তিনি এই অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।