
মো: আব্দুল্লাহ,স্টাফ রিপোর্টার (সিলেট):
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণীর স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত (৬ই এপ্রিল) শনিবার ভোর থেকে উপজেলার হরিপুর এলাকার ভাড়ার ডুয়ারে দলে দলে স্নান ও পূজা পার্বনে অংশ নেয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বারুণীর স্নানে পাপ মোচন, নিজেদের আশাপূরণ ও দেহ পবিত্র করতে ফুল, ফল, ডাব,কলাসহ চন্ডী পাঠের মাধ্যমে বিশ্বাসকে লালন ও ধারন করে বিভিন্ন বয়সের নর-নারী প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হরিপুর এলাকার ভাড়ার ডুয়ারে স্নান করে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে জৈন্তাপুর উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান ফতেপুর ইউনিয়ন (হরিপুর) পশ্চিম বালিপাড়া) ভাড়ার ডয়ার নামক স্থানে
সিলেট সদর, সিলেট শহরে বসবাসরত বিভিন্ন জেলার বাসিন্ধা সহ জৈন্তাপুর , গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলা বিভিন্ন স্থান হতে দলে দলে গঙ্গাস্নান করেতে ও গঙ্গাপূজায় অংশ নেয় লক্ষাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে হরিপুর বাজার সহ ভাড়ার ডুয়ারে তীর্থ স্থান।
গঙ্গা হল পুণ্যদায়িনী। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সকলেই গঙ্গা স্নান করে থাকে পুণ্য লাভের আশায়। আবার বাঙালির সমস্ত পূজা‚জোতে গঙ্গা জল, গঙ্গা মাটি অবশ্য প্রয়োজনীয়। বিশেষ বিশেষ তিথিতে যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে অনেক পুণ্য সঞ্চয় করা যায়।চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্র যোগ হলে সেই তিথি বারুণী নামে পরিচিত। এই তিথিতে স্নান করলে বহুশত সূর্যগ্রহনের জন্য গঙ্গা স্নানের যে ফল সেই ফল লাভ করা যায়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীর পুলিন সরকার বলেন, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে ভাড়ার ডয়ারে গঙ্গাস্নান করলে সব পাপ মোচন হয়ে যায় বলে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে। পাপ মুর্চন ও পূণ্য লাভের আশায় প্রতিবছরই বিভিন্ন উপজেলা হতে হাজারও মানুষ আসেন হরিপুর (পশ্চিম বালিপাড়া) এলাকার ভাড়ার ডয়ারে পুণ্যতীর্থে গঙ্গাস্নান করতে। এই ডয়ারে গঙ্গাস্নান করাকে অনেকে গঙ্গাস্নানের সাথে সমতুল্য মনে করে।
এসময়, তপ্ত কুন্ড পরিচালনা কমিটির সভাপতি পুলিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক দশরত সরকার, রসিক সরকার, সুরেশ বিশ্বাস, ইন্দ্রজিত বিশ্বাস, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, ৫নং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দফাদার আব্দুল মন্নানের নেতৃত্ব আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম আলী, হেলাল আহমেদসহ ৬-৭ সদস্যের একটা গ্রাম পুলিশ টিম।