
ক্রাইম ডেস্কঃসিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের ভিত্রিখেল হাওড়ে নজরুল শিকদারের মালিকানাধীন জমিতে উত্তোনকৃত বালুর স্তুপ থেকে বালু নেওয়ার সময় ভিত্রিখেল হাওড়ের লোকজনের সাথে বড়বন্দ হাওড়ের লোকজনের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে,এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ এ ঘটনার মূল কারিগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম,এলাকাবাসীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক তিনি পেলোডার দিয়ে ট্রাক গাড়িতে বালু লোড করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
জানা যায়,দীর্ঘদিন থেকে আরিফ তার বসতবাড়ির পার্শের ফসলি জমি কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করে আসছে,
আরিফ ছাত্রদলের পদবীধারী নেতা পরিচয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মুহুর্তেই যেকোনো জায়গায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করে।এলাকাবাসী কখনো তার এইসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস করতে পারেন না।
এরই সুবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের অন্তর্গত ভিত্রিখেল হাওড়ে নজরুল শিকদারের নিজস্ব মালিকানাধীন জমির উত্তোলনকৃত বালুর স্তুপ থেকে জোরপূর্বক বালু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ।
সেখান থেকে বালু নিতে গেলে তাকে বাঁধা প্রদান করেন এলাকাবাসী,এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে পড়লে আরিফ নিজেকে ক্রেতাসুত্রে বালুর মালিক দাবি করে।
এরপরেও এলাকাবাসী তাঁকে বালু নিতে নিষেধ করিলে তিনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে থাকা বালু পাহারাদারদেরকে জোরপূর্বক গাড়িতে বালু লোড করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সরেজমিন কেউ বাধা দিতে আসলে দেশীয় অস্ত্রে প্রতিহত করার জন্য উদ্ধত করিলে মুহুর্তেই দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে নানা অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান,কিছুদিন আগে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ কে হেনস্তা করেছে আরিফ।
এরপর বালু নিতে নিষেধ করায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার নুর মোহাম্মদ খানের ফার্মেসীতে ঢুকে তাঁকে অক্ষত ভাষায় গালমন্দ সহ্ তাহার ছেলের পা কেটে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন আরিফ।
স্থানীয়রা বলছেন,সিলেট ৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য(মন্ত্রী) আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির ক্রিড়া সম্পাদক নেতা স্টালিং সহ দলীয় বড় বড় নেতাদের সাথে আরিফ কলেকৌশলে নানা অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী ছাত্র নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে।
শুধু তাই নয়,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ গড়ে তুলেছে তার নিজস্ব সিন্ডিকেট বাহিনী,একটু এদিক-সেদিক হলেই তার বাহিনী দিয়ে বিভিন্নজনের নাম ও ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অপপ্রচার(হামলা) চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করে।
সংঘর্ষের পর তাকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা/সমালোচনা।ছাত্রদল নেতার বেপরোয়া কর্মকান্ডে প্রশ্নবিদ্ধ মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা আরিফ বলেন,রাজনীতির ইফেক্ট ব্যবসার উপর চাপিয়ে আওয়ামিলীগ নেতা নজরুল শিকদারদের কাছে চাঁদা দাবি করেন ডাক্তার নুর মোহাম্মদের ছেলে সহৃ এলাকার ছেলেপেলেরা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে এলাকাবাসী মিলিত হয়ে সেখানে থাকা বালু বিক্রি করতে নিষেধাজ্ঞা দেন।
আমি নজরুল শিকদারের সাথে কথা বলে বালুগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমাকেও এলাকাবাসী বাঁধা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কি নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে সেটা আমার জানা নেই।