
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস ও দ্রুত সময়ের মধ্য হত্যাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত (১৪ই জানুয়ারি) রবিবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৫নং ফতেপুর ইউনিয়ন (হরিপুর) তাওহহিদী জনতার ডাকে ও বৃহত্তর জৈন্তার হাফিজ মাওলানা আব্দুশ শাকুর (রহ) স্মৃতি পরিষদের সমর্থনে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দলইপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুশ শাকুরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সকাল সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছিলো।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকে উপজেলার হরিপুর বাজারে স্থানীয় মাদ্রাসার প্রবীন শিক্ষক, ছাত্র ও স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় তামাবিল মহাসড়কে হরিপুর পয়েন্টে রাস্তার দুইপাশে জমা হয় দীর্ঘ গাড়ীর সারি। ফলে সিলেট ও জাফলংগামী যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।
ঘন্টাব্যাপী চলমান অবরোধ কর্মসূচি মধ্যে স্থানীয় মাদ্রাসার মুহতামিমগনের সাথে জরুরী বৈঠকে বসেন জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ প্রশাসন। বৈঠকে মরহুম আব্দুশ শাকুরের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার জন্য ১ মাসের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। নতুবা একমাস পরে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচীর ডাক দেয়ার কথাও জানানো হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে অবরোধ চলাকালীন কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তামাবিল মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ সময় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা সদস্য মুহিবুল হক মুহিব, ৫ নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক আহমেদ, বিশিষ্ট মুরব্বি আলহাজ্ব আলাউদ্দিন, আলহাজ্ব আব্দুল হামিন, আব্দু রব মিয়া, আব্দুল হক, ফারুক মিয়া, কুতুব উদ্দিন শিকদার, হাজী কালা মিয়া,জালাল উদ্দিন, হরিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হিলাল আহমদ,
দারুল উলুম হেমু মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা জিল্লুর রহমান, বাগেরখাল মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, হরিপুর মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সিলেট নগরীর ভার্থখলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
উল্ল্যেখ্য গত বছরের ২৪শে নভেম্বর শুক্রবার সকালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুশ শাকুরের উপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ করে স্হানীয় হাজির আলি ও তার পরিবারের সদস্যরা। গুরুতর আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ পৃথক পৃথক অভিযানে হাজির আলি সহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।