এমরান আলী,কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর পর্যটন যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। আকাশ ছোঁয়া মেঘ, পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ নীলাভ জলধারা আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অপূর্ব মিতালী—সব মিলিয়ে সাদাপাথর পর্যটন স্পট ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য লীলাভূমি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্বচ্ছ পানির নদীতে জলকেলির উৎসবে মেতেছেন নানা বয়সী মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন থেকেই নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলতে হাজারও পর্যটক ছুটে আসছেন সাদাপাথরে। অনেকেই মুঠোফোনের ফ্রেমে বন্দি করছেন স্মৃতিময় মুহূর্ত। কেউবা ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরছেন। সাদাপাথরের মুগ্ধতার গল্পে আর চোখ জুড়ানো মনোরম দৃশ্য দেখে বিভোর সবাই।
পর্যটন ঘাটের ইজারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথরে আসছেন। পর্যটন ঘাট থেকে মূল স্পটে যেতে প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী পরিবহন করা হয়। যাওয়া-আসার জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বরিশাল থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসা কলেজছাত্র ইমন বলেন, “সাদাপাথরের সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছি। তবে বাস্তবে এসে দেখলাম, এটি কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। সুযোগ পেলে আবারও আসব।”
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক ফাহিম মাহমুদ বলেন, “শীতল পানিতে গোসল করার পর সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত চেঞ্জিং রুম না থাকায় কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি এসেছে।
কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, “আগের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। স্পটের সৌন্দর্যও আরও আকর্ষণীয় হয়েছে। ফলে আমাদের ফটোগ্রাফির কাজও ভালো চলছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিন থেকে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।
নৌকার মাঝি সেবুল আহমদ বলেন, “ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটক তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে ভিড় অনেক বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।”
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বকুল সাহা বলেন, “পর্যটনকেন্দ্রে দুটি পৃথক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত টিম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারণা সম্পর্কে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, “সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাদাপাথরের আবেদন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।”
সম্পাদক : নাজমুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল্লাহ
স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক জৈন্তিয়ার ডাক সম্পাদক: নাজমুল ইসলাম