স্টাফ রিপোর্টার সিলেটঃসিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পরিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা থেকে পাথর লুটের ঘটনায় খনিজ সম্পদ আইনে অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০জনকে আসামি করে মামলা হলে উপজেলা জুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার(১৮ আগস্ট)রাতে উপজেলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল মুনায়েম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
অজ্ঞাত এ মামলা নিয়ে কেউ কেউ বলছেন মামলা বাণিজ্যর আরো এক নতুন ফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে, কেউ কেউ বলছেন জাফলংয়ে দিবারাত্রি পাথর লুটের সাথে থানার ওসি এবং কয়েক এসআই এএসআই এবং কিছু কনস্টেবলের সংবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা সহ রাজনৈতিক দলীয় বিএনপি ও আওয়ামিলীগের লুটরাজ নেতাদের নাম এই মামলায় উল্লেখ করে লিখা হয় নি।যদি কানের টানে মাথা চলে আসে এই ভয়ে মামলায় আসামি অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন অজ্ঞাত মামলায় কোন নিরপরাধ নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়।
পাথর লুটের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে,কতিপয় দুষ্কৃতকারী ৭,৮ ও ৯ আগস্ট জাফলং গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারির জিরো পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে টানা ৩দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর লুট করা হয়েছে,যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০ লক্ষ টাকা। কোন রকম দায়সারাভাবে এজাহার দাখিল করায় বাদীকে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করছেন সচেতনমহল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অজ্ঞাত মামলার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অজ্ঞাত এই তেলেসমাতবাজি মামলার বিষয়ে রাতেই অনুসন্ধানে নামেন একটি অনুসন্ধানী টিম।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাফলংয়ের এক পরিবহন নেতা চা চক্রে বসে বলেন, যদি নাম উল্লেখ করে মামলা হতো কিংবা আমি কোন সময় মামলায় আসামি হই! তাহলে ওসি এবং এসআই ওবায়দুল্লাহ, এএসআই মোবারক,কনস্টেবল রিকন,কনস্টেবল সুব্রতদের নাম বলে দিবো,কোথায় কোন হোটেলে লেনদেন হয়েছে এবং ওসি রাত কয়টায় গাড়ি নিয়ে জাফলং আসতেন সবকিছু বলে দিবো।
চা চক্রে বসে ঐ ব্যক্তির বলা সম্পুর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন এই অনুসন্ধানী টিম।অন্যস্থানে কৌশলে তথ্য সংগ্রহের সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন জাফলংয়ে যা হয়েছে পুলিশকে লিয়াজু করে হয়েছে।এই কারণে মামলায় নাম ধরলে অনেকেই ফেঁসে যেতেন।
আলী হোসেন নামের এক স্থানীয় সাংবাদিক তার ডেইলি গোয়াইনঘাট ফেইসবুক আইডি থেকে লিখেছেন,পাথর লুটের ঘটনায় অবশেষে থানায় ১০০/১৫০জনকে অজ্ঞাত করে মামলা হয়েছে বাহঃ। কিন্তুু বল্লাঘাটের নিচের ১৮টি সাইটে যাঁরা জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর চুরি করে কালেকশন করেছিলো এবং একটি বাহিনীর নামে গাড়ি প্রতি ৩হাজার টাকা করে চাদায় করেছিলো উক্ত চক্রটি কি ঐ মামলার আসামি হবে! জাতি জানতে চায়।
অনুসন্ধান বলছে জাফলংয়ের পাথর লুটের ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিলো সবকিছুই পুলিশ জানেন এবং বাদী নিজেও জানেন কারা জড়িত, জানার পরেও অজ্ঞাত এ মামলার রহস্য আরো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধানের কাজ চলমান রয়েছে এই টিমের।
তবেঁ এইসব পাথর বালু লুটতরাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনপ্রকার ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি থানার ওসি সরকার তোফায়েল কে।পাথর লুটের ঘটনায় তিনি মোটেও অনুতপ্ত নয়,তবে নিজের চেয়ার ধরে রাখতে উর্ধতনদের নিকট দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বলেও জানা যায়।মামলার বিষয়ে তিনি বলেন সরকার পতনের পরেও কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছিলো তখনও মামলা হয়েছিলো এখন আবার ১০০ থেকে ১৫০জনকে অজ্ঞাত রেখে মামলা হয়েছে।
সম্পাদক : নাজমুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল্লাহ
স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক জৈন্তিয়ার ডাক সম্পাদক: নাজমুল ইসলাম