ক্রাইম ডেস্কঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট থানাপুলিশের অভিযানে গত মঙ্গলবার বিকাল ০৪ ঘটিকার সময় উপজেলার হাদারপার থেকে আসা ভারতীয় ৭গাড়ি গরু আটক করে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ আর এই গরুগুলোই কাল হয়ে দাড়িয়েছে গোয়াইনঘাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো.রফিকুল ইসলাম পিপিএম এর।কাল হয়ে দাড়িয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও।
তথ্য নিয়ে জানা যায়,দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি গোলাপগঞ্জ থানা থেকে বদলি হয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি শুরু করেন চোরাচালান থেকে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িরা বাধ্য হয়ে তাকে চাহিদামত চাঁদা পরিশোধ করতে হতো,মেজর সিনহা হত্যাকারী টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের চেয়েও কম নয় তিনি। সিলেট জেলার ডিআইজির সাথে তার লিয়াজু থাকায় তিনি খুনি প্রদীপের মত আচরণ করে গিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানায়।
আওয়ামিলীগ সরকারের পতনের পর পরই গোয়াইনঘাট থানা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, এ এসময় অনেকেই ওসি রফিকুল ইসলামকে গালমন্দ করে বলতে শুনা যায়, ওসি কোথায়?চাহিদামত চাদা না দেওয়ায় আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।থানা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দৃশ্যমান ছিলো সেদিনের ঘটনায় ব্যবসায়িদের ক্ষোভ।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে ৫তারিখ রাতেই থানা থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। এতে তিনদিন পর্যত থানা লুটপাটের সুযোগ পায় লুটতরাজরা।ঘটনার ৬দিন পর আবার থানায় আসেন তিনি, পরবর্তী তাঁকে ডিবি পুলিশ সিলেটের পরিদর্শক হিসেবে দ্রুত অপসারণ করা হয়।
গতকাল ২৬/৮/২৪ মঙ্গলবার ভারতীয় গরু আটক করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এই সাবেক অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সীমাহীন লুটপাট আর চাঁদাবাজির মুখোশ।
উপজেলার হায়দার দিয়ে দেদারসে ভারত থেকে আসে ভারতীয় গরু-মহিষ,চোরাই পথে আসা এ সকল গরু মহিষের বৈধতার রশীদ দাতা এবং ইউএনও ওসির কালো টাকার মেশিন খ্যাত হাদারপার কুনকিরি কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আছব আলী মেম্বারের পুত্র লিয়াকত আলী আজাদ।গরু আটকের পর ভারতীয় গরুর বিক্রয় রশীদের মালিকানা লিয়াকত আলী আজাদের নাম রয়েছে।
আটক কৃত গরুর রশীদ কপিটি এক সংবাদকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট করায় লিয়াকত আলী আজাদ তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে ঐ সংবাদকর্মীকে কল দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাঁকে প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদান করে।এ সময় লিয়াকত আলী বলেন,থানার ওসি একশো কোটি টাকা নিয়ে গেছে এবং ইউএনও কোটি কোটি টাকা নিতেছে তাঁদের বা*ফালাইতে পারো না আইছো আমার বা* ফালাইতে।
লিয়াকতের চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য প্রদান ও সংবাদকর্মীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গোয়াইনঘাটজুড়ে সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয় পাশাপাশি চোরাকারবারিদের মদদ দাতা লিয়াকত আলীকে গ্রেফতারের দাবী জানান সংবাদকর্মীরা।
এদিকে গোয়াইনঘাট থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলামকে ছাত্রলীগের ওসি ছিলেন বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন শুনা যায়,রফিকুলের বিরুদ্ধে একশো কোটি টাকার দুর্নীতি সীমান্ত চোরাচালানে লুটপাট সহ্ একটি হত্যা মামলা হয়েছে বলেও জানা যায়।
সম্পাদক : নাজমুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল্লাহ
স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক জৈন্তিয়ার ডাক সম্পাদক: নাজমুল ইসলাম